Friday, May 3, 2019

মেঘ বালিকা

মেঘ বালিকা শুনে যাও!(কবিতা)
....ব্লগার হাসান মাহমুদ

মেঘ-বালিকা! ও মেঘ -বালিকা!
আমায় নেবে তোমার সঙ্গে,
ঐ দূর গগণে যখনি উড়ে বেড়াও,
সাদা ডানা মেলে, যখনি গাংচিল এর মতো
ঘুরে বেড়াও দেশ বিদেশে।

মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে হয় জানো়!
ছুঁয়ে দেখতে তোমায়,কিন্তু পারিনা,
শুধু দূরে সরে থাকো তুমি।
তবুও অনুভব করি তোমায়,
কেমন তুলতুলে তুলার মত নরম তুমি,
হীম শীতল ঠান্ডা শরীর তোমার।

তোমার চারপাশে কত রঙের মেলা,
রঙের ভুবনে কর তুমি সারাক্ষণ খেলা,
সাত রঙের আবরনে তোমায় বেশ লাগে।
হলুদ, লাল, নীল, বেগুনী ফুল।
পরী ভেবে কতবার যে করেছি ভুল।
অপলক দৃষ্টিতে শুধু দেখি তোমায় ।

তুমি থাক ঐ দূর নীলিমার অজানাই,
মাঝে মাঝে আস ফিরে এই মাটির ধরায়,
তোমার স্পর্শে আমি ফিরে পাই জীবন
তোমার প্রেমে আকুল হয় এই প্রাণ।

মাঝে মাঝে হয়ে যাও আমাবস্যার মতো
তিমির কালো রাতের মতো।
গোমড়া মুখ করে রাখো তুমি।
অপরুপ বদনখানি কালো হয়ে যায় তখনি।
আমার খুব মন খারাপ হয় তখন।
তোমার কষ্ট গুলো ঝড়ে পড়ুক এ ধরার বুকে।
আমি তা জড়িয়ে নেবো আমার সর্বাঙ্গে।

প্রায়ই অদৃশ্য হয়ে যাও তুমি!
কোথাও হারাও জানিনা আমি।
আমি অপেক্ষায় থাকি তোমার ফিরে আসার,
শ্রাবন ধারার পরশে তোমাকে কাছে পাবার।

Sunday, April 28, 2019

আমি এসেছি তোমার শহরে

আমি এসেছি তোমার শহরে,
যে শহরের কোন এক ফ্লাট বাড়িতে তুমি বন্দী
বিলাসি কোন এক পোষা পাখির ন্যায়।
যে খোলা আকাশে উড়তে হারদম ডানা ঝাপটায়।

আমি এসেছি তোমার শহরে,
মনে আছে কী!বিকেল বেলায় মামার দোকানের
ফুসকা আর ঝালমুড়ি বড় প্রিয় ছিলো তোমার।
আজ সেইসব স্মৃতির ডায়েরিতে জমা পড়ে আছে।

আমি এসেছি তোমার শহরে,
এখন অনেক রাত শহর ঘুমিয়ে গেছে,
সুখের তরে অন্যের বাহুডোরে তুমি আজ নিষ্পেষিত
দুমড়েমুচড়ে ক্ষতবিক্ষত আজ দেহের প্রতিটা বাজ।

আমি এসেছি তোমার শহরে,
এই শহর এখন বড় অচেনা মনে হয়
অথচ কিছুদিন আগে হাত ধরেছিলাম গুলজার মোড়ে, মনে আছে কী তোমার?

আমি এসেছি তোমার শহরে,
এই শহরে ঘুরবো ফিরবো আরো কিছুকাল।
হঠাৎ করে একদিন হারিয়ে যাবো কোনো অজানাই,
যেদিন পড়বেনা আমার পায়ের ছাপ এই ব্যস্ত নগরে
হয়তো সেদিন অনুভব করবে আমার শূন্যতা।

Sunday, March 17, 2019

হারিয়ে গেছি

কোথায় তুমি??

হারিয়ে গেছি।
হারিয়ে গেছি শেষ বিকেলের সূর্য ডোবা অন্ধকারে
হারিয়ে গেছি এই আকাশের মেঘের ভিড়ে
অর্থ ছাড়া অর্থহীনের এই শহরে
হারিয়ে গেছি ট্রাফিক জ্যামের লাল বাতিতে
শুন্য গতির চাকায় চেপে ঘামতে থাকা দুর্গতিতে
হারিয়ে গেছি ছুটতে থাকা সব মানুষের প্রবল ভীড়ে।

হারালে কখন ?

এই কিছুক্ষণ আগেই বোধহয়
না হয় তারও একটু আগে
কি আসে যায় যদি হারাই আরো আগে
কেমন হবে বলতো দেখি হারাই যদি ভবিষ্যতে।

অনেক হলো এবার বলো
এখন তুমি কোন জগতে?

এখন আমি তোমার চোখের হাসি মাখা মুগ্ধতাতে
নয়তো তোমার ঠোঁট বাঁকানো বিরক্তিতে
এখন আমি তোমার ফোনের অন্য পাশে
তোমার সাথেই এই পৃথিবীর এক বাতাসে

অনেক হলো এখন বলো ফিরবে কখন?

ফিরতে হবে? 

স্রোতে ভেসে যাই!

মন উড়ে যায় তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে
অদূর সীমান্তে,
যেখানে নেই কোনো কোলাহল
আছে শুধু গভীর নিরবতা।

একলা আমি নিরব পাঠকের মতো
পড়ছি তোমার কবিতা,
মনস্পটে ভেসে উঠে তোমার সাথে কাটানো
প্রতিটি সময়ের কথা।

যদিও তুমি আজ দূরে তবুও রয়েছো
এই বুক জুড়ে একান্ত অনুভবে,
তোমার স্মৃতি করছি স্মরণ, থাকো তুমি
এই হৃদয়ে যতদিন দেহে প্রাণ রবে।

সময় বয়ে যায় বহমান নদীর স্রোতের মতো
তাকে বেধে রাখা যায় না,
শুধু মনে রেখো,আমি যে ছিলাম আপন
এমন আর কাউকে পাবে না।

একলা এভাবে কেটে যাচ্ছে দিন
তোমার শূন্যতায়,
ভালো থেকো তুমি তোমার পৃথিবী নিয়ে
আমি না হয় -স্রোতে ভেসে যাই!!

Monday, March 11, 2019

সাদা কালো জীবন

অনেক আশা ছিলো!
ভালবাসা ছিলো অনেক!
চেয়েছিলাম একান্তে পেতে
চাইনি তোমায় হারাতে!

মনে অনেক রঙ ছিলো
ছিলো অনেক আলো
অবশেষে বুঝলাম
জীবন টা সাদা কালো!!

এখনো জ্যোস্না দেখি
আকাশের তারা গুনি
আগের মতো লাগেনা ভালো
দুঃখের রঙ যে কালো।

কি দোষ ছিলো? একবার বলো!
আমি তো চাইনি এমন!
শুধু অপেক্ষা আর অপেক্ষা
মনের ঘরটি হয়েছে অগোছালো।

আজও কাদে মন নিরবে
অশ্রুতে ভিজে বালিশ
ভালবাসার অপরাধে -
করতে পারিনা কোনো নালিশ।

বদ্ধ ঘরের কোণাটা এখন
বেশ লাগে ভালো,
বেলা শেষে বুঝলাম
জীবন টা সাদা কালো।

আমি চাই রাঙাতে --
ভালবাসায় ভরাতে চারপাশ
এসে জ্বেলে দাও আলো
জীবনের রঙ হবেনা আর সাদা কালো।

সেনানী সফর ২০১৯

মার্চ এর ১০ তারিখ
দিন টি ছিলো রবিবার
সেনানী সফরে গিয়েছি মোরা
বান্দরবানের ঐ দূর পাহাড়।

সকাল হতে যাত্রা শুরু,
মধ্যখানে বিরতি নাস্তার
সকলে ছিলাম খুশি,
যখন হলাম ফেরিপারাপার।

চলছে গাড়ি পাহাড়ি উঁচু নিচু
আঁকাবাকা পথ বেয়ে,
কেউ পড়ছে নাত কছিদা
কেউ শুনছে মুগ্ধ হয়ে।

দুপুরের কাছাকাছি থামলো গাড়ি
"মেঘলা" গিয়ে,
কমলা রঙের টি শার্টে  অপূর্ব
মেঘলা 'র প্রকৃতি গেল ছেয়ে।

বনভোজন হলো মেঘলায়
সু-স্বাদু খাবার ছিলো তালিকায়,
খাবার শেষে পড়লাম নামাজ,
তারপর ঘুরাঘুরি প্রকৃতির মোহনায়।

কেউ দুলে ঝুলন্ত ব্রিজে
কেইবা চালায় নৌকা,
মিলেমিশে ছিলাম মোরা
নয়তো কেউ একা।

বিকেলে সবাই একসাথে
গেলাম নীলাচলে,
চাঁদের গাড়ির চরম গতিতে
সবাই হেলেদুলে।

নীলাচলের নিচ পাহাড়ে
অভিষেক নিলাম সেরে,
শপথ করেছি মোরা একসাথে
কাজ করব সুন্নিয়তের তরে।

অভিষেক শেষে শুরু হলো কুইজ
সেনানী ভাইদের নিয়ে,
সবাই ব্যস্ত উত্তর লিখতে নিভুলভাবে
কেউ লিখছে মাথা খাটিয়ে।

অতপর বেড়ানো প্রকৃতির মাঝে
কেউবা ছবি তুলছে বন্ধুদের নিয়ে,
এভাবে কেটে গেলো মধুর সেই ক্ষন
সন্ধায় আসতে হলো  ছাড়িয়ে।

গাড়ি উঠলাম আবার সকলে
ফিরে যেতে হবে নীরে,
ক্লান্ত দেহ নিয়ে বসে বাসের আপন সিটে
এসেছি ধীরে ধীরে।

বেলা শেষে বলবো আমরাই সফল!!
সাক্ষী আছে বান্দরবানের মেঘলা আর নীলাচল।

......................................................
হাফেজ মুহাম্মদ হাসান ইমাম
রাউজান, চট্টগ্রাম।
তারিখ ১১/০৩/২০১৯

Wednesday, March 6, 2019

মিশে যাব শূণ্যে

অন্ধকার ঘর,! চারপাশে তিমির কালো
এক কোণায় পড়ে আছে অতৃপ্ত আত্মা,
মনে হয় গৃহবন্দী সেই, বেড়ুতে পারেনা কিছুতেই
যেন হাত পা তার বাধা!!

নিরব গোঙানি শুনেনা কেউ, কিংবা বুঝতে পারেনা
কোনো ভাবেই,অবাধে ঝড়ছে অশ্রু জল,।
অবিরাম বর্ষায় যেমন মাঠ-ঘাঠ ভরে যায় অ তৈ পানিতে, যেভাবেই ডুবে গেছে মনের অন্দরমহল।!

থাক থাক এভাবে, আছি আর বলো কতকাল!?
একদিন ছুটি হবে, মিশে যাবো শূণ্যে,
আর দেখা হবে না, কিংবা বলা হবেনা কোন কথা
শুধু উদাস চোখে আকাশের ঐ তারা গুনবে।

ফিরে ফিরে আসবো আমি বারেবার,
তোমার দু'নয়নে অশ্রু ধারা হয়ে,
ঝড়তে দিওনা সেই আঁখি জল, স্বযত্নে রেখো তুলে
তোমার হৃদ মাঝারে, কখনো যাবো না ক্ষয়ে।


ভালো থাকো রোজ

প্রেয়সী! গতরাতে তোমার স্মৃতি মিশে থাকা ছবিগুলো ডিলিট করে দিয়েছি ইচ্ছে করেই, মোবাইলের মেমোরি থেকে এক ক্লিকেই মুছে ফেলা যায় কত সহজে, অথচ, ...